মেনু নির্বাচন করুন
পাতা

বরুড়া উপজেলার নামকরণ ও ঐতিহ্য

 

      বিশের দশকে ত্রিপুরা জেলার মেহেরকুল অঞ্চল এবং লালমাই পাহাড় ও ময়নামতি পাদদেশ এবং শেরশাহ এরাডের দক্ষিণ পার্শ্বের অংশেক চান্দিনা থানায় নামকরণ করা হয়। রাজনৈতিক, সামাজিক, ধর্মীয় নেতৃবৃন্দের প্রভাবে এবং প্রশাসনিক প্রয়োজনে চান্দিনা থানার দক্ষিণ অংশের ৩৪০ টি গ্রাম, ২৩৪ মৌজা, ১৫টি ইউনিয়ন, ৫৯,৭২৩,৪০ একর ভূমির ৯৩ বর্গমাইল এলাকা নিয়ে ১৯৪৮ সালের ২৪ মার্চ তারিখে বরুড়া উপজেলার সৃষ্টি হয়।

       বরুড়া অঞ্চলের যে সকল রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ খেলাফত আন্দোলন, কৃষক আন্দোলন, অখন্ড ভারতবর্ষ আন্দোলন, বৃটিশ আন্দোলন, স্বদেশী আন্দোলন, অসহযোগ আন্দোলন, যুক্তফ্রন্ট আন্দোলনের সাথে সম্পৃক্ত ব্যক্তিবর্গ নতুন থানার উদ্যোক্তা ছিলেন। তাঁদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলেন: (১) কমরেড ইয়াকুব আলী (বড় মিয়া), পূর্ব বাংলা কমিউনিস্ট পার্টির সেক্রেটারী জেনারেল (২) সৈয়দ এমদাদুল হক (লাল মিয়া), হোসনাবাদ পরগনার প্রতিষ্ঠাতা ও আইন পরিষদ সদস্য (১৯১৬-২১) (৩) মো: অছিম উদ্দিন, কংগ্রেস সদস্য ও আইন পরিষদ সদস্য (১৯৩২-৪৭) (৪) মাওলানা মো: ওসমান, মুসলিম লীগের সদস্য ও এম.পি. (১৯৫৪) (৫) মাও: কোরবান আলী (৬) হাজী রমজান আলী (৭) আব্দুল কাদের ভূঞা (৮) আব্দুল হামিদ ভূঞা (৯) হাজী নোয়াব আলী (১০) নূরুল হক চৌধুরী (১১) হাজী আব্দুল ওহাব (১২) কেরামত আলী পন্ডিত (১৩) ওয়াহেদ আলী পন্ডিত প্রমুখ।

     এ কথার যথেষ্ট প্রমাণ রয়েছে চান্দিনা থানার দক্ষিন অংশকে আলাদা থানা হিসাবে রুপান্তরিত করার উদ্দেশ্যে এতদাঞ্চলের সকল রাজনৈতিক, শিক্ষাবিদ, বুদ্ধিজীবি, সমাজসেবক নেতৃবৃন্দ সম্মিলিতভাবে আলোচনায় বসার পর এ অঞ্চলের রাজনৈতিক -ধর্মীয় ও সংস্কৃতিক প্রভাব সম্পর্কে গুরুত্ব দিয়ে তাঁরা সর্ব প্রথম ধর্মীয় দিক পর্যালোচনা করে দেখেন ৩০০শতাব্দী থেকে ১৯৪৭ সাল পর্যন্ত দীর্ঘ ১৬০০ শত বছর ত্রিপুরা অঞ্চলে রাজা জমিদার সবে মিলিয়ে ১৪৪ জনের নাম উল্লেখ রয়েছে।  তন্মধ্যে বড়কামতা (চান্দিনা) রাজধানীতে ২৬ জন রাজার শাসেনর কথা উল্লেখ রয়েছে। রাজ-রাজন্যগণ প্রত্যেকে বৌদ্ধ ধর্মালম্বী ছিলেন বৌদ্ধদের ধর্মীয় খেতাব বড়ুয়া। এদের মধ্যে খড়গবংশীয় রাজা রাজভট্ট(৫২৫-৭২৫) দুইশত বছর রাজত্ব কালে তিনি চার হাজার বৌদ্ধ ভিক্ষকে পৃষ্ঠপোষকতা ও তাদের সকল ব্যয়ভার বহন করে সমাজ সেবার যে দৃষ্টান্ত সৃষ্টি করেছেন তার ওপর ধর্মীয় গুরুত্ব দেন।

     দ্বিতীয়ত: নেতৃবৃন্দ এ অঞ্চলের সংস্কৃতিক ঐতিহ্যের ওপর বিষদ আলোচনা করে দেখেন এ অঞ্চলে অধিকাংশ স্থানে পান চাষ করা হচ্ছে ( যা এখনো বিদ্যমান)। যারা পান চাষ কের তাদেরকে বারই বলে এবং পান চাষকৃত জমিকে (বরজ) অাঞ্চলিক ভাষায় বর বলা হয়। নেতৃবৃন্দ ধর্মীয় প্রভাব এবং সংস্কৃতিক ঐতিহ্য এ দুটি বিষয়কে সমন্বয় করে নতুন থানার একটি নাম করণের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন। তারি ধারাবাহিকতায় ধর্মীয় ঐতিহ্যের বড়ুয়া এর দ্বিতীয় শব্দাংশের ''ড়ুয়া'' এবং সংস্কৃতিক ঐতিহ্যের "বর" অর্থাৎ বর+উ+র+আ= "বরুড়া" নামকরণ করে চান্দিনার দক্ষিন অংশের নতুন থানার নামকরণ করেণ।


Share with :

Facebook Twitter